
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ সাত মাসের সংঘাত নিরসনে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই প্রস্তাবের কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই রূপরেখা ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন রুট বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। এর আগে গত জুনে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার ভিত্তিতেই বর্তমান প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুংকার এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় এই কূটনৈতিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, নির্দিষ্ট শর্তগুলো পূরণ করা হলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানো এবং প্রণালি পুনরায় চালু করার আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলে প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনকে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন শর্তের কথা উল্লেখ না করে জুনের সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলোই পুনর্ব্যক্ত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ব্যাপারে যদি আন্তরিকতা থাকে, তাহলে এখনই সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে।
ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বর্তমানে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং সেখানে পারমাণবিক ইস্যুও স্থান পাচ্ছে। তবে মার্কিন পক্ষের দাবি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকায় তারা বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং এ বিষয়ে তাদের কোনো তাড়া নেই। অন্যদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শর্ত নিয়ে সন্দিহান থাকায় নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের কথাও ভাবছেন।
এই সংঘাতের জেরে কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বরং সৌদি আরব এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মিত্র দেশগুলোও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতার বিষয়টি অবহিত করেছেন। বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন: শীর্ষ বৈঠকে ট্রাম্প ও শি জিনপিং: বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তির বার্তা
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।