

ব্রাসেলস: নির্ধারিত মেয়াদের আগেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দ। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনে চলা নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটল।
ইসিবি সূত্রে জানা গেছে, ক্রিস্টিন লাগার্দ তার পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গভর্নিং কাউন্সিল এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাকে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন। মূলত ফ্রান্সের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই নতুন কাউকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতেই তিনি এই সময়টি বেছে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনমত জরিপে ডানপন্থী প্রার্থী মেরিন লে পেনের সম্ভাব্য জয় এবং রাজনৈতিক সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই এই আগাম ঘোষণা এসেছে।
আগামী ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইসিবি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়বেন ক্রিস্টিন লাগার্দ। তার এই আগাম পদত্যাগ ইউরোপের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
ক্রিস্টিন লাগার্দের মূল মেয়াদ ২০২৭ সালের অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তার যোগদানের সম্ভাবনার বিষয়টিও ভবিষ্যৎ গন্তব্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। এদিকে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার লড়াইয়ে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ক্লাস নট এবং স্পেনের সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকপ্রধান পাবলো হার্নান্দেজ দে কোসের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান সময়ে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে, যা এই পরিবর্তনের সময়কে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তেলের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সরকারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঋণের বোঝায় জর্জরিত ফ্রান্সে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যাংকটির আমানতের ওপর সুদের হার ২ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার প্রত্যাশা থাকলেও আগামী ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর নতুন ইঙ্গিত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফিনল্যান্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্লাবের শরৎ উৎসব উদযাপন