

রাজধানীর ধানমন্ডিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের বাসার সামনে চার থেকে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজে যাওয়ার প্রাক্কালে ঘটা এই আকস্মিক বিস্ফোরণে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার দুপুরে বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদের বাসার বাইরে হঠাৎ বিকট শব্দে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। জুমার নামাজ আদায় করতে বাসা থেকে বের হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পালানোর সময় সন্দেহভাজনদের ধাওয়া করে আটক করেন এবং পরবর্তীতে পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারকের বাসায় পরিকল্পিতভাবে এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অবিস্ফোরিত অবস্থায় আরও তিনটি ককটেল উদ্ধার করেছে। পরবর্তী সময়ে পুলিশের বিশেষায়িত বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট (Bomb Disposal Unit) এসে ওই ককটেলগুলো নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।
এই আকস্মিক হামলার পর বিচারপতির বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অবিলম্বে জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার পেছনে কোনো গভীর নাশকতা বা পরিকল্পিত হুমকি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও ঘটনার মূল উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হানিফের মৃত্যুদণ্ড, বাকি তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড
বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে টহল আরও বাড়ানো হয়েছে।