রাজধানীর বুকে অবৈধভাবে লুকিয়ে রাখা এক বিশাল বিদেশি বন্যপ্রাণীর সন্ধান মিলেছে। রূপনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ১০৪টি বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছে বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ডব্লিউসিসিইউ)। পাচার ও অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে এই প্রাণীগুলো সেখানে জমা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার রূপনগরের 'টি' ব্লকের ৬ নম্বর সেকশনের একটি আবাসিক বাসায় আকস্মিক এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পাশাপাশি পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যালায়েন্সের সদস্যরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
অভিযান চলাকালে বাসাটি থেকে কাজী সাজিদ উল্লাহ দস্তগীর নামের ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় রূপনগর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর তালিকা বেশ দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময়। এর মধ্যে রয়েছে দুটি কর্ন সাপ, একটি মেক্সিকান ব্ল্যাক কিংস্নেক, একটি গোল্ডেন চাকুনি ট্যারান্টুলা, একটি ব্লাড লেগ ট্যারান্টুলা, একটি ডাম্পি ব্যাঙ এবং দুটি লেপার্ড গেকো। তবে সবচেয়ে বড় সংখ্যাটি ছিল কচ্ছপের। উদ্ধার করা কচ্ছপের মধ্যে ৮৪৬টি রেড-ইয়ার স্লাইডার, ১৮টি পিংক-বেলিড সাইডনেক, ১৩৮টি রিভস কচ্ছপ, ৫৬টি কমন স্ন্যাপিং এবং ৩৮টি ইয়েলো-ইয়ার স্লাইডার কচ্ছপ রয়েছে। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, উদ্ধার করার সময় এর মধ্যে ২১টি বন্যপ্রাণী ইতোমধ্যে মারা গিয়েছিল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, এই অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার পেছনে আরও একটি চক্র জড়িত রয়েছে। এই চক্রের বাকি সদস্যদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনতে বর্তমানে তদন্ত চলছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, দেশে যেকোনো ধরনের বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে আমদানি, রপ্তানি, কেনাবেচা কিংবা পরিবহন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই সফল অভিযানটি পরিচালনায় সময়োপযোগী সহায়তার জন্য রূপনগর থানা পুলিশ এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বন বিভাগ।
মন্তব্য করুন