হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধসংঘাত শুরু হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা চালানোর পর ওয়াশিংটনকে চরম ও কড়া হুঁশিয়ারি ছুড়েছে তেহরান। ইরানের এলিট সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস’ (আইআরজিসি) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসনের পর তারা আর চুপ থাকবে না। যদি নতুন করে আর কোনো হামলা চালানো হয়, তবে তার মার্কিন বাহিনীকে ‘কঠোর ও ব্যাপক’ পাল্টা জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।
আইআরজিসি’র একাধিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের জাস্ক ও সিরিক এলাকায় তীব্র বোমাবর্ষণ করেছে। এই হামলায় সিরিক অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ারসহ বেশ কয়েকটি বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন এই আগ্রাসনের পরপরই অ্যাকশনে নেমেছে আইআরজিসি। তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও নৌ-হামলা পরিচালনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির গভীরতা প্রকাশ করে আইআরজিসি তাদের পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর একটি খতিয়ান সামনে এনেছে:
ড্রোন ও নৌ-হামলা শুরু: মার্কিন হামলার তাৎক্ষণিক জবাব হিসেবে আইআরজিসি তাদের ড্রোন স্কোয়াড ও নৌবাহিনীকে ব্যবহার করে পারস্য উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মার্কিন স্বার্থে আঘাত হেনেছে।
চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা টার্গেট: ইরান জানিয়েছে, তারা পরবর্তী বড় ধরনের হামলার জন্য অলরেডি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাদের সম্ভাব্য বিধ্বংসী তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ৪টি উচ্চ-কৌশলগত স্থাপনা।
এফ-৩৫ হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টার: এই ৪টি লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার’ এবং মূল ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ রয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত মূলত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়াকে কেন্দ্র করে। পেন্টাগন বা ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পরিকল্পিতভাবে তাদের হেলিকপ্টারটি গুলি করে ভূপাতিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির আকাশে মার্কিন হেলিকপ্টারটির বিধ্বস্ত হওয়া কোনো পরিকল্পিত বা ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ ছিল না এবং ইরান সেখানে কোনো সরাসরি আক্রমণ চালায়নি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে অজুহাত বানিয়ে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনা যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই মুখোমুখি অবস্থান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
মন্তব্য করুন