|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

0 শেয়ার
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বাসায় ঢুকে মা ও তার তিন মেয়েকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
  • পালানোর সময় গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ঘাতক অন্তর মজুমদারও।
  • বিস্তারিত পড়ুন।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক ভয়াবহ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একটি বাসায় ঢুকে মা এবং তার তিন মেয়েকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর আঘাত ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। এই বর্বরোচিত ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ঘাতক যুবকেরও মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ নিহত ৩

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় পুরো জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ও ঘাতকের পরিচয়

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের চার সদস্য। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮) এবং তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিপা আক্তার (৮)।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

অন্যদিকে, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত ঘাতক যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। সে নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বাসিন্দা এবং পেশায় ফল বিক্রেতা ছিল বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য ও হামলার নৃশংসতা

হামলার তীব্রতা ও নৃশংসতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তা দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসকরাও স্তব্ধ হয়ে যান। বিকেলে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়েছিল।

চিকিৎসকরা জানান, শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। বিশেষ করে মেজো মেয়ে ইকরার ওপর হওয়া আঘাতটি ছিল সবচেয়ে বিভীষিকাময়, ধারালো অস্ত্রের কোপে তার ফুসফুস পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা প্রথমে মা শাহিনুর বেগম, বড় মেয়ে সায়মা এবং ছোট মেয়ে শিপাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেজো মেয়ে ইকরাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা জার্নি করে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম ঘাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আরও জানান, গণপিটুনির শিকার ঘাতক অন্তর মজুমদারের মাথায়ও ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত ছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে তারও মৃত্যু হয়।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত শাহিনুর বেগমের স্বামী কামাল হোসেন ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শাহিনুর বেগম গোডাউন রোডের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারও পূর্বে ওই একই বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকত এবং সেই সুবাদে তাদের পূর্বপরিচয় ছিল।

আজ সকালে হঠাৎ করেই সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওই বাসায় ঢুকে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, কিন্তু ততক্ষণে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।