চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বিএনপি নেতার কাছ থেকে নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মো. আব্দুস সালাম (৫০) নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১০ জুন) তাকে ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আব্দুস সালাম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৫ নম্বর দুওসুও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মহিষমারী গ্রামের মো. ইশার উদ্দীনের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাতে মহিষমারী গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. ফরহাদ আলীর বাড়ির বারান্দা থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল চুরি হয়। পরদিন সকালে চুরির বিষয়টি টের পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ফরহাদ আলী জানতে পারেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম টাকার বিনিময়ে সেটি উদ্ধার করে দিতে পারবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে যোগাযোগ করা হলে সালাম প্রথমে মোটরসাইকেলের অবস্থান জানার দাবি করেন এবং ফরহাদ আলীর ফোন থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির সাথে কথা বলে নম্বরটি মুছে দিয়ে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
পরবর্তীতে গত মঙ্গলবার বিকালে মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে আব্দুস সালাম ভুক্তভোগী বিএনপি নেতাকে ঠাকুরগাঁও সদর কোর্ট এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে গাড়ি হস্তান্তরের নাম করে আরও ৩০ হাজার টাকা নেন এবং টাকা পাওয়ার পরপরই ফরহাদ আলীকে বসিয়ে রেখে কৌশলে চম্পট দিয়ে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে আব্দুস সালাম বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা এলাকায় এলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জনতা তাকে ঘেরাও করে। এ সময় তিনি উলটো আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করে হুমকি দিলে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বুলবুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফরহাদ আলী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করার পর বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং চুরিকৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন