
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে নিযুক্ত ১১ জন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আঞ্চলিক কূটনীতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকটি সম্পন্ন হয়।
এই আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানরা অংশ নেন। আঞ্চলিক এই বৈঠকে অংশ নিতে গত সোমবার রাতেই ঢাকা থেকে দিল্লি যান ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠক শেষে নিজের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলারে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এর আগে ভারতে অনুষ্ঠিত আমাদের রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলনে আমি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছিলাম। সম্মেলনটি আয়োজন করেছেন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং মিশনপ্রধানদের সঙ্গে কথা বলাটা একটি দারুণ বিষয় ছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমাদের রাষ্ট্রদূতেরা গর্বের সঙ্গে আমেরিকাকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে উজবেকিস্তান সফরের পরিকল্পনা রয়েছে মার্কো রুবিওর। ওই সফরে তাঁর সঙ্গে শতাধিক মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিদের একটি শক্তিশালী ব্যবসায়ী দল থাকবে। এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ার কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও এগিয়ে নেওয়া এবং দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা ব্যাপকভাবে জোরদার করা। বিগত এক দশকে উজবেকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা বর্তমান আঞ্চলিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্য এশিয়ায় মার্কিন ভূরাজনৈতিক উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দিল্লির এই আঞ্চলিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি দিকনির্দেশনা এবং রাষ্ট্রদূতদের এই যৌথ বৈঠক আগামী দিনগুলোতে এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ইস্যুগুলোতে এই বৈঠক নতুন গতির সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।