দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Story
প্রকাশ : Jul 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

স্কুলে ডেকে শিক্ষার্থীদের চুল কাটলেন সভাপতি: অভিভাবক-কর্তৃপক্ষ হাতাহাতি

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের অভিভাবক এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে তুমুল হট্টগোল ও মারামারির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শৈলকুপার মির্জাপুর ইউনিয়নের কিসমত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি কয়েকজন ছাত্রকে ডেকে একটি ক্লাসরুমে জড়ো করেন। এরপর বাইরে থেকে একজন নাপিত ডেকে এনে ক্লাসরুমের ভেতরেই তাদের চুল কাটানো শুরু করা হয়। এই খবরটি যখন শিক্ষার্থীদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তখন অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে অভিভাবকরা দলে দলে বিদ্যালয়ে এসে এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। এক পর্যায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির রূপ নেয়।

ভুক্তভোগী অষ্টম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তাদের জোর করে ধরে এনে ক্লাসরুমের ভেতর নাপিত দিয়ে চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ছিল।

তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মামুনুর রশিদ যুক্তি। তিনি জানান, বিদ্যালয়ে ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তার দাবি, আগের দিন অভিভাবকদের নিয়ে একটি মিটিং করা হয়েছিল এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে যেসব শিক্ষার্থীর চুল বড় বা অগোছালো, তাদের চুল ঠিক করে দেওয়া হবে। সেই অনুযায়ীই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর হাতাহাতির ঘটনাটি একজন অভিভাবকের উসকানিতে ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুজ্জামান হিরোক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে এমন একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে যা একেবারেই আশা করা যায় না। সভাপতি ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কাজটি করতে চেয়েছিলেন। এখন আমরা সবার সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।

এই বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে জানতেন না। খবর পাওয়ার পর এখন তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে তিনি পরিষ্কার করে বলেন যে, আইনগতভাবে কোনো শিক্ষার্থীর চুল এভাবে জোর করে কেটে দেওয়ার কোনো নিয়ম বা সুযোগ নেই।

সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মীরা বলছেন, এই ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীদের মনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শিক্ষার্থীদের মানসিক দিকটি বিবেচনা করা উচিত এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সবাইকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েও বিদায় নিল পাকিস্তান: ৫ রানের নাটকীয় জয়ে

1

মোজতবা খামেনি কি জীবিত? ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের বিস্ফো

2

তেহরানে বিমান হামলায় খামেনির পর তাঁর স্ত্রীরও মৃত্যু: অবসান

3

কর্ণফুলীতে পাথর বোঝাই লাইটার জাহাজ ডুবি, কোস্টগার্ডের তৎপরতা

4

Scotland vs Morocco Prediction: ২০২৬ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও

5

আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স: ফুটবলের নতুন ধ্রুপদী লড়াই ও অলিম্প

6

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা: মাত্র ১৮ দিনে বিচার শেষ, স্বামী

7

এনসিপিতে পদত্যাগের মহামারি: জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতাই কি কাল

8

বিশ্বশান্তির বিশ্বস্ত কারিগর: জাতিসংঘে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরব

9

এনসিপির সমাবেশে হামলার প্রতিবাদে মধ্যরাতে শাহবাগে বিক্ষোভ

10

বরুণ ধাওয়ানের পরিবার ও আন্ডারওয়ার্ল্ড হুমকির স্মৃতি ২০২৬ |

11

নিহত ১৭০ স্কুলছাত্রীকে অভিনব উপায়ে স্মরণ করল ইরান ফুটবল দল

12

হামের প্রকোপ: দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ, একদিনে আরও ৩ শিশুর মৃত্য

13

শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ পরিদর্শক ক্লোজড

14

একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে

15

নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান লাইভ ম্যাচ প্রেডিকশন ও একাদশ ২০২৬

16

ট্রাম্পের ‘ভেঙে ফেলার রাজনীতি’! মিত্রদের অন্ধকারে রেখে শুরু

17

পা ভেঙে ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে কোনে

18

হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি ইসরাইল

19

বকশীগঞ্জ সীমান্তে পুশইন চেষ্টা, বিজিবি-বিএসএফ উত্তেজনা

20