শিশুর জন্মকে কেন্দ্র করে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সদকায়ে জারিয়ার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে 'হাউস অব আল তৌফিকী'। শিক্ষাবিদ, লেখক ও সমাজসেবক তৌফিক সুলতান তাঁর প্রথম পুত্র সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক-এর আকিকা উপলক্ষে ঘোষিত ৭৭ দিনব্যাপী গণবৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার) বিশেষ বৃক্ষরোপণ দিবস পালন করতে যাচ্ছেন।
"একটি শিশু-একটি গাছ, একটি গাছ-একটি সদকায়ে জারিয়া" এই মহৎ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সমাজে চলমান সওয়াবের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
হাউস অব আল তৌফিকী পরিবারের প্রথম সন্তান সুলতান তাজরিয়ান আল তৌফিকী ইবনে তৌফিক ২০২৬ সালের ৯ জুন (মঙ্গলবার) রাত ২টা ২০ মিনিটে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মো. তৌফিক হোসাইন (তৌফিক সুলতান) ও তৌফিকা সুলতানা ঋতু দম্পতির প্রথম পুত্রসন্তান। সন্তানের জন্মের পর পিতা এক আবেগঘন ঘোষণাপত্রে বলেন, “আমি এ শিশুকে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দরবারে সঁপে দিয়েছি, দীন ও মিল্লাতের খেদমতে উৎসর্গ করেছি।”
এর আগে গত ১২ জুন কাপাসিয়ার ৯টিরও বেশি মসজিদ এবং নরোত্তমপুর ও বারিষাব গ্রামের মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে এই উদযাপনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৫ জুন (সোমবার) দুপুরে নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীতে পারিবারিক বাসভবনে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে নবজাতকের আনুষ্ঠানিক আকিকা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বর্জ্জাপুর ঈদগাহ মাঠের ইমাম সাইফুল্লাহ তারেকী এই মোনাজাত পরিচালনা করেন। অনুষ্ঠানে ঘাগটিয়া চালা মডেল হাইস্কুল, নরোত্তমপুর মোহাম্মাদিয়া ইসলামিয়া এতিমখানা (চুরার টেক মাদ্রাসা), ভাওয়াল ইসলামিক ক্যাডেট একাডেমি এবং ব্রেভ জুবিলেন্ট স্কলার্স অফ মনোহরদী মডেল কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবেশীরা অংশ নেন।
আগামীকাল ৩ জুলাইয়ের বিশেষ কর্মসূচির অধীনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ছায়াবৃক্ষসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ ও বিতরণ করা হবে। এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিদ্যালয়, এতিমখানা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে এই চারাগুলো রোপণ করা হবে।
সদকামূলক অনন্য শর্ত: যাঁরা নিজ বাড়ির জন্য এই চারা সংগ্রহ করবেন, তাঁদের জন্য একটি কল্যাণকর শর্ত রাখা হয়েছে। গাছ থেকে ভবিষ্যতে প্রাপ্ত ফল, কাঠ বা অন্য যেকোনো উপকারের অর্ধেক নিয়মিতভাবে একটি মাদ্রাসায় দান করতে হবে, আর বাকি অর্ধেক পরিবার নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। এর মাধ্যমে একটি গাছ বহু বছর ধরে সমাজকল্যাণ ও দানের এক ধারাবাহিক মাধ্যম হিসেবে টিকে থাকবে।
ইসলামে বৃক্ষরোপণকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল এবং সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে, এরপর মানুষ, পাখি কিংবা অন্য কোনো প্রাণী তা থেকে উপকৃত হয়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।"
এমনকি কেয়ামতের মুহূর্তেও হাতে চারা থাকলে তা রোপণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে হাদিসে। এই শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতেই এই দীর্ঘমেয়াদি সবুজ উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
আগ্রহী ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সামাজিক সংগঠনগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চারা সংগ্রহের জন্য সরাসরি নিচের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারবেন:
হাউস অব আল তৌফিকী বাড়ি নং-৪০৫, ১০৩/৭৭ আল তৌফিকী পরিবার রোড, নরোত্তমপুর, বারিষাব-১৭৪৩, কাপাসিয়া, গাজীপুর। (নরোত্তমপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের বিপরীত পাশে)
উদ্যোক্তা ও শিশুটির পিতা তৌফিক সুলতান বলেন, "আমরা চাই, একটি শিশুর জন্মের আনন্দ যেন হাজারো গাছের জন্মের কারণ হয়। যদি আমাদের এই ছোট উদ্যোগ অন্য পরিবারগুলোকেও অনুপ্রাণিত করে, তাহলে প্রতিটি নবজাতকের আগমনে বাংলাদেশ আরও সবুজ হয়ে উঠবে।" হাউস অব আল তৌফিকী-এর পক্ষ থেকে দেশের সকল পরিবেশপ্রেমী মানুষ, যুবসমাজ ও সংগঠনকে আগামীকালের এই বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন