আগামী বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। এবারের পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। পরীক্ষা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশে শেষ করতে ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, পরিবহন ও কেন্দ্র ব্যবস্থাপনায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ কড়া নজরদারি।
বোর্ডভিত্তিক শিক্ষার্থীর তথ্যে জানা গেছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার ১০ লাখ6৯ হাজার ৭১৪ জন পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসবে। এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৩ লাখ ৩৯৩ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৭ hide ২১০ জন এবং চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া বরিশাল বোর্ডে ৫৮_৬৬৪ জন, সিলেট বোর্ডে ৭১ হাজার ৬১১ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ১৩_৪৭৯ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৩_০৩৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। সব মিলিয়ে এবারের মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ২ হাজার ৬৯৭টি।
পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভিভিত্তিক পর্যবেক্ষণসহ সব পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি রয়েছে। এদিকে পরীক্ষার লিখিত উত্তরপত্র জমা ও সংরক্ষণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বোর্ড। প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের ওই দিনই উত্তরপত্র পুলিশ পাহারায় সরাসরি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে অথবা নিরাপদে থানায় জমা দিতে হবে।
সম্প্রতি কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরীক্ষা আইন সংশোধন করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীর কাছে নকল পাওয়া গেলে তাকে সরাসরি আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কোনো কেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা কেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন