সিনেমাপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল চমক নিয়ে হাজির হলো পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’। বক্স অফিসে আয়ের সব রেকর্ড ওলটপালট করে দিয়ে এটি এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ আয়কারী জীবনীভিত্তিক সিনেমা বা বায়োপিকের মর্যাদা পেয়েছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি পেছনে ফেলে দিয়েছে ক্রিস্টোফার নোলানের অস্কারজয়ী ব্লকবাস্টার ‘ওপেনহাইমার’কে।
পরিবেশক সংস্থা লায়ন্সগেটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে মুক্তির পর থেকে বিশ্বজুড়ে ‘মাইকেল’ সিনেমাটি প্রায় ৯৭৭ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে, এতদিন রাজত্ব করা ‘ওপেনহাইমার’ সিনেমাটির মোট সংগ্রহ ছিল ৯৭৫ মিলিয়ন ডলার। সামান্য ব্যবধানে হলেও নোলানের সেই কালজয়ী সৃষ্টিকে টপকে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছাল পপ কিংয়ের এই বায়োপিক।
সিনেমাটিতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার আপন ভাতিজা জাফর জ্যাকসন। শুরু থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা ছিল, যার প্রতিফলন দেখা গেছে এর ওপেনিং উইকএন্ডেই। মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই বিশ্বজুড়ে এটি রেকর্ড ২১৮.৮ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যার মধ্যে কেবল উত্তর আমেরিকাতেই এসেছে ৯৭.২ মিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০১৫ সালের ‘স্ট্রেইট আউটা কম্পটন’ মিউজিক্যাল বায়োপিক হিসেবে মুক্তির প্রথম সপ্তাহে আয়ের যে রেকর্ড গড়েছিল, সেটিও ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে ‘মাইকেল’।
অ্যান্টোইন ফুকুয়ার পরিচালনায় এবং জন লোগানের চিত্রনাট্যে এই বায়োপিকে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের নানা অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশির দশকে ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’ ব্যান্ডের মাধ্যমে তাঁর গানের জগতে পথচলা শুরু থেকে শুরু করে বিশ্বসংগীতের কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প নিখুঁতভাবে তুলে ধরা হয়েছে এতে। শুধু তাঁর পেশাদার জীবনই নয়, ব্যক্তিগত জীবনের নানা চড়াই-উতরাই এবং বিতর্কও স্থান পেয়েছে এই চলচ্চিত্রে।
সিনেমার মূল চরিত্রে জাফর জ্যাকসন ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নিয়া লং, জুলিয়ানো ভালডি, মাইলস টেলার এবং কোলম্যান ডোমিঙ্গোর মতো একঝাঁক তারকা।
প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তোলার পর সিনেমাটি গত ৯ জুন অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও, অ্যাপল টিভি এবং ইউটিউবের মতো প্রিমিয়াম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আর যারা ফিজিক্যাল কপি সংগ্রহে রাখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য আগামী ১৪ জুলাই ডিভিডি, ব্লু-রে এবং ৪কে ইউএইচডি সংস্করণে এটি বাজারে আসছে।
সবচেয়ে বড় খবর হলো, প্রথম পর্বের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের পর এর দ্বিতীয় পর্ব অর্থাৎ সিক্যুয়েলের কাজও ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। মাইকেল ভক্তদের জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দের খবর আর কী-ই বা হতে পারে!
মন্তব্য করুন