
ঢাকা: পাঁচটি করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবিকে কেন্দ্র করে করা রিট খারিজ করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছেন, তা স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (সোমবার) আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আবেদন দুটি ডিলিট বা মুছে দেন। চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এই আদেশ দেন। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত মোট পাঁচ করবর্ষের বিপরীতে প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি ঘিরে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ পৃথক দুটি রিট করে। গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রিট দুটি খারিজ বা রুল ডিসচার্জ করে রায় দেন। এর ফলে গ্রামীণ কল্যাণের কাছে কর বাবদ ৬৬৬ কোটি টাকা দাবি সংক্রান্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্ত বৈধতা লাভ করে। হাইকোর্টের এই রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণ আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন জানায়।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সরদার জিন্নাত আলী ও আবদুল্লাহ আল মামুন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, লিভ টু আপিল দায়ের না করা পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চাওয়া হয়েছিল যাতে এর ভিত্তিতে কোনো জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হয়। তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত না হওয়ায় চেম্বার আদালত আবেদন দুটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর নিয়মিত লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইনজীবীও আশ্বস্ত করেছেন যে, পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
আলোচিত এই কর দাবি মামলার আইনি লড়াই শুরু হয় ২০১৭ সালে, যখন গ্রামীণ কল্যাণ কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি রিট দায়ের করে। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন এবং কর কমিশনারের আদেশ বাতিল করেন। পাশাপাশি বিলম্ব মার্জনা করে শর্তসাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত কর কমিশনারের আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে এনবিআর পৃথক লিভ টু আপিল করলে আপিল বিভাগ ২০২৪ সালের ১১ মার্চ তা নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে পুনঃশুনানির নির্দেশ দেন। পুনঃশুনানি শেষে চলতি বছরের ৪ আগস্ট হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রিট দুটি খারিজ করে রায় দেয়। পরে দ্বৈত বেঞ্চের দ্বিতীয় বিচারক অতীতে সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় রায়টি ডিফেক্টিভ বা ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে বিবেচনায় গত ২৯ আগস্ট রায়টি প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চে পাঠানো হয় এবং গত ১০ সেপ্টেম্বর রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রামীণ কল্যাণপক্ষ হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুলিপি পাওয়ার পরপরই আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল দায়ের করা হবে বলে আইনি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বিষয়ে চূড়ান্ত আইনি ফয়সালা কোন দিকে গড়ায়, তা এখন আপিল বিভাগের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।