জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়েছে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টার দিকে স্পিকারের অনুমতি সাপেক্ষে দেশের ৫৫তম এই বাজেট প্রস্তাব পেশ করা শুরু করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটে দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু আমদানি করা পণ্য, বিলাসবহুল সামগ্রী এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর শুল্ককর ও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিয়ম ও রীতি অনুযায়ী, বাজেটে শুল্ককর পরিবর্তনের এই প্রস্তাব ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাজারে তা কার্যকর হয়ে যায়। ফলে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতার পর পরই তালিকায় থাকা সুনির্দিষ্ট পণ্য ও সেবাগুলোর দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি বিবেচনায় সিগারেটের সবকটি স্তরেই ন্যূনতম খুচরা মূল্য বাড়ানো হয়েছে। নিম্নস্তরের ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য ৬২ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের মূল্য ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মারাত্মক ক্ষতিকর নিকোটিন গ্র্যানুলস ও পাউচের ওপর ৩৫০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ রোধে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসির তেলচালিত (ডিজেল, অকটেন বা পেট্রল) আমদানি করা গাড়ির করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৫৬ শতাংশ করা হয়েছে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে বিদেশি প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, বিদেশি পাঙাশের ফিলের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার আমদানিতে নতুন করে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। একই সাথে শুল্কায়ন মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদেশি মধু, সুপারি, কফি, লিপ লাইনার, খেলনা, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং টাইলসের দাম বাড়বে। নির্মাণ খাতের অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান রড তৈরির উপকরণের ওপরও ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করায় সামগ্রিকভাবে রডের দামও বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন