নামটা সুপারগার্ল হলেও উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে তার উড়ানটা মোটেই সুপার হলো না। ডিসি স্টুডিওসের দ্বিতীয় বড় ছবি সুপারগার্ল মার্কিন ও কানাডার প্রেক্ষাগৃহে মাত্র ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার আয় করেছে, আর বিশ্বজুড়ে মিলিয়ে সংখ্যাটা ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। মুক্তির আগে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ভেবেছিল শুধু মার্কিন বাজারেই ৫ থেকে সাড়ে ৫ কোটি ডলার আসবে। সেই লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে পড়ে থাকল ছবিটি।
১৭ কোটি ডলার বাজেটের এই ছবির জন্য শুধু প্রেক্ষাগৃহে ব্রেক ইভেনে পৌঁছাতেই দরকার ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে পথ এখনো অনেক বাকি। তুলনা টানলে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়, গত বছর ডেভিড করেন্সওয়েটের সুপারম্যান একা মার্কিন বাজারে উদ্বোধনী সপ্তাহান্তে আয় করেছিল ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার, বিশ্বব্যাপী মোট উপার্জন ছিল ৬১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। সেই ছবির সঙ্গে তুলনায় সুপারগার্ল কার্যত তিন ভাগের এক ভাগেও পৌঁছাতে পারেনি।
মিলি অ্যালককের সুপারগার্ল চরিত্রে অভিনয় ছিল প্রশংসিত, কিন্তু ছবিটির সামগ্রিক পর্যালোচনা ছিল হতাশাজনক। রটেন টম্যাটোসে মাত্র ৫৭ শতাংশ রেটিং। হলিউড রিপোর্টারের প্রধান চলচ্চিত্র সমালোচক বলেছেন, ছবিটি একটি "অনুপ্রেরণাবিহীন ক্লান্তিকর" অভিজ্ঞতা, যদিও অ্যালককের পারফরম্যান্সকে তিনি আলাদা করে প্রশংসা করেছেন। এই দুর্বল পর্যালোচনা আর গরমের মৌসুমে কড়া প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ছবিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষাগৃহ-আয়ের সম্ভাবনাও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
শীর্ষে থেকে গেল টয় স্টোরি ৫। ডিজনি-পিক্সারের এই অ্যানিমেটেড সিক্যুয়েল দ্বিতীয় সপ্তাহান্তেও ৭ কোটি ডলার আয় করে শীর্ষ আসন ধরে রেখেছে। মাত্র ১২ দিনে বিশ্বজুড়ে ৫৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করে বছরের অন্যতম বড় হিট হওয়ার পথে ছুটছে ছবিটি।
সুপারহিরো ঘরানার এই হোঁচট জেমস গান ও পিটার সাফ্রানের নেতৃত্বাধীন ডিসি স্টুডিওসের জন্য একটা সতর্কসংকেত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপারম্যান ছিল বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত সুপারহিরোদের একজন, কিন্তু সুপারগার্ল সেই অর্থে দর্শকের কাছে পরিচিত মুখ নন। ডিসি ইউনিভার্সের পরবর্তী পরিকল্পনায় আছে এই অক্টোবরে ক্লেফেস এবং ২০২৭ সালে সুপারম্যান: ম্যান অব টুমোরো। সুপারগার্লের এই পরিণতি সামনের ছবিগুলোর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন