
পুরো ৯০ মিনিট ধরে গোলের দরজা খুলছিল না। দর্শকরা ভাবছিলেন অতিরিক্ত সময়, হয়তো পেনাল্টিও। ঠিক তখন ঘড়ির কাঁটায় ৯২। বক্সের বাইরে থেকে ক্রসটা ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্যর্থ হলো দক্ষিণ আফ্রিকার ডিফেন্ডার, বলটা পড়ল স্টিফেন ইউস্তাকিওর সামনে। বুকে নামিয়ে নিয়েই ডান পা দিয়ে বজ্রপাত করলেন তিনি, বলটা গেল জালের তলার কোণে। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়াম ফেটে পড়ল উল্লাসে। কানাডা ১-০ এ এগিয়ে গেল, আর সেই স্কোরলাইনই হলো চূড়ান্ত।
এই একটা মুহূর্তে কানাডার ফুটবল ইতিহাস বদলে গেল। দলটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিল। এর আগে কখনো কোনো নকআউট ম্যাচ খেলেনি তারা, রোববার সেই বাধাটাও পেরিয়ে গেল একটা অবিশ্বাস্য গোলে।
ম্যাচজুড়ে কানাডাই ছিল ভালো দল। বল দখল মাত্র ৪২ শতাংশ থাকলেও প্রতিপক্ষের বক্সে স্পর্শের সংখ্যায় ২৮ বনাম ৯, শটস অন টার্গেটে ৭-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কানাডা। প্রথমার্ধের শেষদিকে মোইজে বম্বিতোর হেড সরাসরি গোলের পথে ছিল, কিন্তু লাইনের ওপর থেকে সরিয়ে দিলেন অব্রে মোদিবা। বিরতির পর জোনাথান ডেভিডের সামনে খালি গোলও মিলেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে বাঁচালেন এমবেকেজেলি মবোকাজি। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামসও একাধিকবার অসাধারণ সেভ করলেন।
বাড়তি আনন্দ ছিল আলফোনসো ডেভিসের মাঠে ফেরা। গ্রুপ পর্বের পুরোটা হ্যামস্ট্রিং চোটে বাইরে ছিলেন কানাডার অধিনায়ক। রোববার বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র ১৫ মিনিটে বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ফিরেছেন। তাঁর উপস্থিতিতে দলটির গতি এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ দুটোই বাড়ল।
ম্যাচ শেষে কোচ জেসে মার্শ খেলোয়াড়দের ঘিরে যা বললেন, সেটা এখন ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। "তোমরা আজ কানাডিয়ান হিরো। ভবিষ্যতের শিশুরা, যারা এই খেলা খেলবে, তাদের জন্য তোমরা কানাডিয়ান হিরো।" কানাডার পরের ম্যাচ ৪ জুলাই হিউস্টনে, প্রতিপক্ষ হবে নেদারল্যান্ডস অথবা মরক্কো।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।