নতুন স্মার্টফোন কেনার পরিকল্পনা থাকলে এই জুনেই সারুন। কারণ আগামী ১ জুলাই থেকে দেশে বৈধ পথে আমদানি করা স্মার্টফোনের দাম ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। গত ছয় মাস ধরে যে শুল্কছাড় ভোক্তাদের স্বস্তি দিয়ে আসছিল, সেটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন।
কীভাবে সুবিধা মিলেছিল, কীভাবে যাচ্ছে
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার আমদানিকৃত স্মার্টফোনের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, অবৈধ 'গ্রে-মার্কেট'-এর সস্তা ফোনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৈধ আমদানিকারকরা যেন টিকে থাকতে পারেন। এই ছাড়ের ফলে আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের ওপর কার্যকর করের হার ৬৪ শতাংশ থেকে নেমে আসে ৪৩.৪৩ শতাংশে।
কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সুবিধার মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে ১ জুলাই থেকে কার্যকর করের হার আবার পুরনো জায়গায় ফিরে যাচ্ছে, ৬৪.২৫ শতাংশে।
কেন বাড়ানো হলো না ছাড়?
এনবিআরের একজন কাস্টমস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বৈধ আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে। কিন্তু গত কয়েক মাসে দেখা গেছে, দুটির কোনোটিই প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। তাঁর ভাষায়, "এই প্রণোদনা তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।"
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহিদ বলেছেন, বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপ, প্রসেসর, মাদারবোর্ড ও ব্যাটারির দাম এমনিতেই বাড়ছে। তার ওপর যদি শুল্ক আগের জায়গায় ফিরে যায়, তাহলে স্মার্টফোনের দাম আরও বাড়বেই। আর দাম বাড়লে সাধারণ ক্রেতারা আবার গ্রে-মার্কেটমুখী হবেন, এই আশঙ্কাটাই তাঁকে ভাবাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
সাধারণ মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুর বিষয়টিকে দেখছেন ভিন্ন কোণ থেকে। তিনি বলেন, স্মার্টফোন এখন আর বিলাসপণ্য নয়, এটি এখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ই-কমার্সের অপরিহার্য হাতিয়ার। দাম বাড়লে ক্ষতিটা হবে সাধারণ মানুষেরই।
উল্লেখযোগ্য যে, গত জানুয়ারিতে শুল্ক কমানোর আগেই অনেক ব্র্যান্ড যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার যুক্তি দেখিয়ে ফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এবার করের হার ৬৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে বৈধ ও অবৈধ বাজারের দামের ব্যবধান আরও বড় হবে এবং গ্রে-মার্কেট আরও চাঙা হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
প্রিমিয়াম ফোনেই বেশি আঘাত
বাংলাদেশে এন্ট্রি-লেভেল ও মিড-রেঞ্জ ফোনের সংযোজন শিল্প এখন মোটামুটি দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু অ্যাপল, স্যামসাং, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা ও শাওমির ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর জন্য দেশ এখনো পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। শুল্ক বাড়লে এই ফোনগুলোর দাম সরাসরি সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ শুল্কের কারণে বৈধ আমদানি কমে গেলে সরকার দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বও হারাবে। আর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও থমকে যাবে।
মন্তব্য করুন