
মৃত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী এবং বিপত্নীক স্বামীরা এখন থেকে পুনরায় বিয়ে না করার শর্তে আজীবন পারিবারিক পেনশন সুবিধা পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক নতুন আদেশে সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধায় এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
রবিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলমের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পারিবারিক পেনশন ভোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রতি বছর একবার পুনর্বিবাহ করেননি মর্মে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে হবে। তবে ৫০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী বিধবাদের ক্ষেত্রে এই প্রত্যয়নপত্র দাখিলের শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
পারিবারিক পেনশন ভোগকালীন পুনর্বিবাহ করেননি মর্মে বছরে একবার অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।
নতুন এই আদেশের ফলে পেনশনের হার ও সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সরকারি কর্মচারীদের চাকরিকালের ভিত্তিতে পেনশনের হার সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান পেনশনভোগীদের জন্য নিট পেনশনের সর্বোচ্চ সীমা ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপনটি ১ জুলাই ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।
সরকারের এই নতুন উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরোত্তর জীবনকে আরও সুরক্ষিত করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিধবা ও বিপত্নীকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নীতিমালা দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেনশনের হার পুনর্নির্ধারণের ফলে সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে নতুন এই নিয়ম সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নতুন এই হিসাব অনুযায়ী পেনশন কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। পেনশনভোগীদের দ্রুত এই নতুন নিয়মের সাথে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।