
শেয়ারবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও শর্ত ভঙ্গের দায়ে সিকদার ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড-এর পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ২০২৩ সালে ১৬ কোটি টাকা উত্তোলনের পর কোম্পানিটি প্রসপেক্টাসে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তহবিল ব্যয় করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিওর অর্থে ফ্লোর ক্রয় এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা দীর্ঘ তিন বছরেও বাস্তবায়ন করেনি। এছাড়া ব্যাংকে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখার ক্ষেত্রেও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন ছাড়াই অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে, যা সিকিউরিটিজ আইন ও মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ বিষয়ে বলেন,
সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিও প্রসপেক্টাসে দেওয়া শর্ত অনুসারে তহবিল ব্যবহার না করে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করায় কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।
কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফ্লোর ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হয়নি, যার ফলে কোম্পানিকে অতিরিক্ত অফিস ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকাই ন্যাশনাল ব্যাংকে অলস পড়ে আছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে কোম্পানির মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, যা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী।
জরিমানার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন নাসিম সিকদার, মমতাজুল হক সিকদার, লিসা ফাতেমা হক সিকদার, মোহতাসিম বিল্লাহ খান, মনিকা সিকদার খান, জোনাস সিকদার খান, সালাহ উদ্দিন খান, জেফরি খান সিকদার, মানডি খান সিকদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসকে আব্দুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আব্দুর রাজ্জাক। কমিশন প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সচিবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।