
ঢাকা: দেশের লুব্রিকেন্ট বাজারে প্রায় ৩০ শতাংশ অনুমোদনহীন, নকল ও নিম্নমানের ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল সক্রিয় রয়েছে, যা যানবাহন, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। গত মঙ্গলবার প্রথম আলো ও মোবিলের (এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ সংলাপে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। সংলাপে অংশ নেওয়া নীতিবান নীতিনির্ধারক, গবেষক ও ব্যবসায়ীরা বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সমন্বিত লুব্রিকেন্ট নীতিমালা প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাজারে আশির দশকের পুরোনো মানদণ্ড বহাল থাকার সুযোগ নিচ্ছে অসাধু চক্র। বর্তমানে বাজারের ৫২ থেকে ৬০ শতাংশ লুব্রিকেন্ট পুরোনো মানদণ্ডের আওতাধীন। কেবল রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশেই ৩০ থেকে ৪০টি অবৈধ কারখানা গড়ে উঠেছে, যেখানে পোড়া তেলের সঙ্গে কেমিক্যাল ও ডাই মিশিয়ে নামীদামি ব্র্যান্ডের নকল বোতলে ভরে বাজারজাত করা হচ্ছে। খুচরা দোকানে আসল তেলের তুলনায় নকল তেলে বেশি লাভ থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এগুলো বিক্রি করতে উৎসাহিত হচ্ছেন।
বাজারের লুব্রিকেন্টের বড় অংশই পুরোনো মানদণ্ডের। এর সুযোগ নিয়ে অসাধু চক্র বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল তৈরি করছে। উৎসে আঘাত হেনে এসব অবৈধ কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। - প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসি
ভেজাল ও মানহীন ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের ঘর্ষণ ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে যন্ত্রাংশ দ্রুত বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে গাড়িচালকদের মেরামত খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বায়ুদূষণের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে। মানহীন লুব্রিকেন্ট পুরোপুরি দাহ্য না হওয়ায় বাতাসে পিএম ২.৫ এবং সালফার অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর কণা ছড়িয়ে পড়ছে, যা মানুষের ফুসফুস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া ব্যবহৃত পোড়া তেল ড্রেন বা মাটিতে ফেলার কারণে মাটি ও জলজ ইকোসিস্টেম চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে।
এই সংকট মোকাবেলায় বিইআরসি, বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে বিএসটিআই আধুনিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড প্রণয়ন ও মোবাইল কোর্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি কাস্টমস ও বন্দরে নজরদারি বাড়ানো এবং কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে আসল তেল যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত ও গ্রাহক ফোরামের সংঘর্ষ, আহত ৫৫
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।