
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেছেন, দেশের জাতিগত মুক্তি একমাত্র সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়েই অর্জন করা সম্ভব। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি আয়োজনে অতীতের বিভাজনের রাজনীতির দায় পর্যালোচনা এবং আগামীর সম্প্রীতির রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। এনসিপির ধর্ম ও সম্প্রীতি সেলের উদ্যোগে রামুর ঘটনার ১৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বিগত দিনের বিভিন্ন সহিংসতার পেছনের কারণ এবং এর প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিগত বছরগুলোতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেন। আয়োজনের মূল বিষয়বস্তু ছিল রামুর আগুন: কার রাজনীতি, কার ক্ষতি, ১৪ বছরের দায় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভবিষ্যৎ। অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভাজনের রাজনীতি কীভাবে দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করেছে, সে বিষয়টি বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রামুর ঘটনাটা দেখেন, এত আলোচিত একটা ঘটনা, ১৪ বছর পরেও কিন্তু বিচার নিশ্চিত করা যায় নাই। রাষ্ট্রের এই কালেক্টিভ ফেইলিউরের কারণে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায়, তারা বারংবার সাহস পায়। বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে, কোথাও জমি দখল, কোথাও প্রভাব-প্রতিপত্তি কিংবা গুজবকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সরকারকে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সামান্য অবনতিকে কাজে লাগিয়ে একটি কুচক্রী মহল দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাতে পারে। তাই শুরু থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আবশ্যক। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা যেভাবে মন্দির পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করেছে, সেই ঐতিহাসিক ভূমিকারও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার ছুটি বাড়লো একদিন, প্রধানমন্ত্রীর অনুদানও বৃদ্ধি
বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে, জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় না থাকলে বাইরের শক্তি এর সুযোগ নিতে পারে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এই সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো গোষ্ঠী ফায়দা লুটতে না পারে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।