
রাজধানীর একটি হোটেলে গত শনিবার অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনিকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) ৩৪তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাম্প্রতিক গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে এই সম্মেলনে বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক আলোচনা করা হয়। দেশের চিকিৎসকদের সর্ববৃহৎ এই আয়োজনে দেশ ও বিদেশের প্রায় ১ হাজার ২০০ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
‘শেপিং দ্য উইমেনস হেলথ থ্রু সায়েন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড লিডারশিপ’ প্রতিপাদ্যের আলোকে আয়োজিত এই সম্মেলনে নারীর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পেশাগত নেতৃত্বের নানা দিক উঠে আসে। দিনব্যাপী এই আয়োজনে মোট ১২টি ভিন্ন সেশনে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, গবেষক ও শিক্ষাবিদেরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এসব সেশনে প্রায় ৫৪ জন বক্তা ও গবেষক তাঁদের গবেষণার ফলাফল এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাম্প্রতিক অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।
সম্মেলনে নবীন ও প্রবীণ চিকিৎসকেরা তাঁদের নিজস্ব গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পান। বিশেষ করে মাতৃভ্রূণ চিকিৎসাবিজ্ঞান, গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজি, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি এবং ইনফার্টিলিটির মতো জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর আধুনিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই নতুন জ্ঞান দেশের রোগীদের চিকিৎসায় কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।
দ্রুত পরিবর্তনশীল চিকিৎসাবিজ্ঞানের সঙ্গে দেশের চিকিৎসকদের আরও সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করাই এ সম্মেলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। - অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, সভাপতি, ওজিএসবি
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি জাতির সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য মাতৃ ও নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা অত্যন্ত নিশ্চিত করতে হবে। মা ও নারীর সুস্বাস্থ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি ২০৩০ অর্জন এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে বলে বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
সার্বিকভাবে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেছেন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের উদ্ভাবনগুলো মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত চিকিৎসকেরা। ভবিষ্যতের দিনগুলোতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক জ্ঞানবিনিময় চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি সহায়তা করবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।