
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বুধবার অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে একাডেমিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নেতিবাচক মন্তব্যের অভিযোগে অধ্যাপক জিনাত হুদার বিচারের দাবি জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সে সময় তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছিল, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সিন্ডিকেট সভা এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এই বিষয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে এবং ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বহিষ্কার আদেশের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক জিনাত হুদা দাবি করেন যে এই পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর ভাষ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই কর্তৃপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি এবং ছয়টি অভিযোগই পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং তাঁকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সৃষ্ট বর্তমান পরিস্থিতি এবং ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদন আগামী দিনে ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক জিনাত হুদার শিক্ষাকার্যক্রম থেকে এই সাময়িক বিরত থাকার আদেশ বহাল থাকবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।