
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে নিজেদের অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২ হাজার ৮৪০ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, নতুন হল নির্মাণ এবং মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের মতো কাজগুলোকে ডাকসুর সাফল্য হিসেবে দাবি করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পরিকল্পনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্প অনেক আগে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবে চলমান ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের তথ্যমতে, ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পটি ২০২০ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের অংশ। গত বছরের ৩০ জুলাই একনেক থেকে প্রকল্পটির অনুমোদন পাওয়া যায়, যা ডাকসু নির্বাচনের অন্তত দুই মাস আগে। এছাড়া চীনা সহায়তায় হল নির্মাণ এবং তুর্কি সংস্থার সহায়তায় মেডিকেল সেন্টার সংস্কারের উদ্যোগগুলোও ডাকসু নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এই দাবিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান বহু বছরের পুরোনো। ডাকসু নির্বাচনের আগে থেকেই এসব পরিকল্পনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী মাস্টার প্ল্যানের অংশ হিসেবে চলে আসছে। ডাকসু হয়তোবা নিজেদের একটি বিকল্প প্রশাসন হিসেবে ভাবছে।
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক এম. এম. আল মিনহাজ দাবি করেন, তারা প্রকল্পের গতি বাড়াতে বিভিন্ন সময় ইনপুট দিয়েছেন এবং তদারকি করেছেন। অন্যদিকে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম জানান, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে প্রকল্পের অর্থ ছাড় ও বাস্তবায়নে তাগাদা দিয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, এসব প্রকল্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমেই, যেখানে ডাকসুর সরাসরি নীতিনির্ধারণী ভূমিকা ছিল না।
বর্তমানে প্রকল্পটি পর্যালোচনার জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মনে করছে, ডাকসুর এই দাবি কেবল সস্তা রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসুর ভূমিকা এবং প্রশাসনিক কাজের মধ্যে এই সমন্বয়হীনতা এখন ক্যাম্পাসে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।