অভিযুক্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসআই ফিরোজ। তিনি দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের তেকালা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৯ জুলাই) রাত পৌনে ১২টার দিকে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ এলাকা থেকে কয়েকজন মাদক বহনকারী বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল নিয়ে পাচারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তারা গরুড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছালে এসআই ফিরোজের নেতৃত্বাধীন টহল দলের সামনে পড়ে যায়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বহনকারীরা বস্তা ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর মামলা না দেওয়ার শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, উদ্ধার হওয়া ৪০০ বোতল ফেনসিডিল দৌলতপুর থানায় জব্দ হিসেবে দেখানো হয়নি এবং এ ঘটনায় কোনো মামলাও দায়ের করা হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, উদ্ধার হওয়া এসব মাদকের মূল মালিক ধর্মদহ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর (৪৫)। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক বহনকারী জানান, আটকের পর পুলিশ সদস্যরা তাদের কাছ থেকে ফেনসিডিলগুলো নিয়ে নেয় এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। এছাড়া এসআই ফিরোজের বিরুদ্ধে নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে সীমান্ত এলাকায় মাদক পরিবহনে সহযোগিতার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন খুচরা মাদক ব্যবসায়ী।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এসআই ফিরোজ। তিনি দাবি করেন, "ওই দিন আমি কোনো মাদক উদ্ধার করিনি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।"
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ৪০০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের কোনো তথ্য তার জানা নেই। তবে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মন্তব্য করুন