পারিবারিক বিরোধের জেরে খুলনায় এক বাবার চরম আঘাতে আরফানা হোসেন নির্জনা নামের দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত নির্জনা খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, তার মাদকাসক্ত বাবা আলীম হোসেন আকাশ পারিবারিক ঝগড়ার এক পর্যায়ে নির্জনার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে মারা গেলে তার দেহটি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনার নিরালা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের মা সীমা আক্তার।
শুক্রবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার এই জবানবন্দি রেকর্ড করার পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত এবং নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সীমা আক্তার জানান, কম বয়সে পর পর দুটি বিয়ে হওয়া এবং প্রায়ই কথা না শুনে বাড়ির বাইরে থাকার কারণে মেয়ে নির্জনার ওপর প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত ছিলেন তার মাদকাসক্ত বাবা আলিম হোসেন আকাশ।
গত বুধবার সন্ধ্যার দিকে সোনাডাঙ্গা বসুপাড়ার বাসায় এই বিষয় নিয়ে আবারও পারিবারিক ঝগড়া শুরু হলে রাগের মাথায় নির্জনার মাথার পেছনে জোরে আঘাত করেন আকাশ। এতে মুহূর্তের মধ্যে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে নির্জনা এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
খুলনা সদর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. আ. সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মায়ের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে নিহতের বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে খুলনা মহানগরের সদর থানাধীন নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সাততলা ভবনের সামনে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে দেহটি খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মরদেহের ছবি দেখে হাসপাতালে গিয়ে নিজের মেয়ের দেহ শনাক্ত করেন তার মা। নির্জনা শহরের সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা ছিল।
ঘটনার পর প্রথমে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, চলতি বছরের ২১ এপ্রিল নির্জনার বিয়ে হয় এবং তার স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। তবে তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে পরিবারের সদস্যরাও পুলিশের তদন্তের আওতায় আসেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, উদ্ধার করা আলামত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং অন্যান্য তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মা ও বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল জানিয়েছে যে, এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাতে কেএমপি সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন