মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় গতকাল যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল, তা মূলত রাখাইন রাজ্যে দেশটির বিমানবাহিনীর চালানো এক ভয়াবহ বিমান হামলা। রাখাইন রাজ্যের বুথিডং এবং মংডুর মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করে এই বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। শক্তিশালী এই হামলায় অন্তত তিনজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টার দিকে মিয়ানমার বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এবং একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান বুথিডংয়ের কেইতমাউক টউং নামের একটি মুসলিম গ্রামে আকস্মিক হামলা চালায়। সেখানে অত্যন্ত শক্তিশালী ৫০০ পাউন্ড ওজনের দুটি বোমা ফেলা হয়। আকস্মিক এই বোমাবর্ষণে ১২ বছর বয়সী সুয়ে-দুল আমিন, মামাত আরস এবং ৫০ বছর বয়সী ইউ আমিন হু সুং নামের তিনজন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হন। বোমার আঘাতে অন্তত ১০টি মুসলিম বাড়িঘর আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এলাকাটিতে তখন ভারী বৃষ্টি হতে থাকায় বিমানের শব্দ আগে থেকে বুঝতে না পারায় স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সীমান্তের একদম কাছাকাছি অবস্থিত মংডু এলাকাতেও দিনভর যুদ্ধবিমান ও ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান থেকে অনবরত বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। যুদ্ধবিমানগুলো সব মিলিয়ে ওইসব এলাকায় অন্তত ১৭ বার বোমা ফেলেছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি, দ্বিতীয় ধাপে সাতটি এবং শেষ ধাপে ছয়টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। মিয়ানমার অভ্যন্তরে হওয়া এই শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলোর তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরবাড়িও কেঁপে ওঠে এবং পুরো সীমান্ত এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মন্তব্য করুন