ভারতের সাম্প্রতিক চিকিৎসা ও উচ্চমাধ্যমিক ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রিক প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র অচলাবস্থার অবশেষে অবসান ঘটেছে। কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের তোলা সব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় চলমান আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
আজ সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস। এর আগে বিতর্কিত প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়ে পদ ছাড়েন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।
নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা সরকারের তরফ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। আলোচনায় যে মূল বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়েছে তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
মামলা প্রত্যাহার: দিল্লি পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়ের করা সব এফআইআর বাতিল করা হবে। ভবিষ্যতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার লিখিতভাবে জানানো হবে।
ক্ষতিপূরণ দেওয়া: পরীক্ষা কেলেঙ্কারির কারণে যে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার: শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে আরও চার দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট ইউজি) কেন্দ্রিক অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের প্রতিবাদে রাজপথে নেমেছিল সিজেপি। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, পুলিশের সহিংস আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়া, নিহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি তুলেছিল তারা।
চলতি সপ্তাহে দিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর এই পদযাত্রা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের রূপ নেয়। টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের মুখেও ক্ষোভ কমেনি। অবশেষে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের সুস্পষ্ট আশ্বাস পাওয়ার মাধ্যমে সফল সমাপ্তি টানল শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন।
মন্তব্য করুন