
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার মাইজচর ইউনিয়নে অবস্থিত বাহেরবালী এসইএসডিপি মডেল হাই স্কুল প্রতিকূলতাকে জয় করে হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে। বছরের প্রায় নয় মাস স্কুলের চারপাশ জলমগ্ন থাকায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন নৌকায় করে ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। তিনতলা বিশিষ্ট এই বিদ্যালয় ভবনটি হাওরের বুকে যেন একটি ভাসমান দ্বীপের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেসিপ প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১১ সালে শেষ হয় এবং ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে মাত্র ৩৫-৪০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন শতাধিক। তবে যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত নৌকার অভাব, খেলার মাঠের সংকট এবং সুপেয় পানির সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের নিত্যসঙ্গী। প্রধান শিক্ষক পিাপন চন্দ্র দাস জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় এবং ইত্যাদি অনুষ্ঠানের অনুদানে দুটি নৌকা দিয়ে কোনোমতে শিক্ষার্থীদের পারাপার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
নৌকা ধরতে আমাদের অনেক ভোরে উঠতে হয়। কেউ নৌকা মিস করলে সেদিন তার ক্লাসও মিস হয়ে যায়। - রিপা দাস, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
২০১৭ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও নবম ও দশম শ্রেণির স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। প্রধান শিক্ষক জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নতুন করে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার শামসুন নাহার মাকসুদা জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং তারা সমাধানের চেষ্টা করছেন। প্রতিকূল পরিবেশ সত্ত্বেও বিদ্যালয়টি নিয়মিত ভালো ফলাফল করে আসছে, যেখানে এসএসসির পাসের হার সাধারণত ৮০ শতাংশের আশেপাশে থাকে।
আরও পড়ুন: নিয়ম না মানলে বন্ধ হবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিদ্যালয়ের ছাদে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তৈরি বাগানটি হাওরের ধূসর জলরাশির মাঝে এক টুকরো সবুজের আভা ছড়ায়। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আরও নৌকার ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই বিদ্যালয়টি হাওরের পিছিয়ে পড়া জনপদের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বড় সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।