
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের আওতায় বিনামূল্যে সফলভাবে ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়া ছয়জন রোগীই বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের তত্ত্বাবধানে ফলোআপ চিকিৎসায় রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই ছয়টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে একটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও তা ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে আরও চারজন রোগীকে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে দুটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়মিতভাবে ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে প্রতিটি অস্ত্রোপচারে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারি সহায়তায় এই কার্যক্রম বিনামূল্যে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। - অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, উপাচার্য, বিএমইউ।
লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের মতো জটিল অস্ত্রোপচারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করছে বিএমইউ। উপাচার্য জানান, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র একাধিক ধাপে যাচাই করা হয়। কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম রোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ডোনারের পারিবারিক পরিচয় ও সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির কারিগরি সহায়তায় ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগের সমন্বয়ে এই চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপাচার্য জানান, পর্যায়ক্রমে অবকাঠামো ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রতি মাসে দুটি করে অর্থাৎ বছরে ২৪টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের চিকিৎসা খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।