
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে কেবল সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটলে তা ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ ও বাতিল হওয়ার আইনি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো বা বেসিক স্ট্রাকচার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রচলিত সংশোধনী ক্ষমতার পরিবর্তে জনগণের গাঠনিক ক্ষমতা বা কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার প্রয়োগ করা জরুরি।
শিশির মনির তার বক্তব্যে অতীতে পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনীর বিভিন্ন অংশ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার নজির তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা বেসিক স্ট্রাকচার সাধারণ সংশোধনী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন করা যায় না। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বর্তমান সরকার শুধু বিদ্যমান ১৫৩টি অনুচ্ছেদের আলোকে ৫ আগস্ট থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের আইনি ভিত্তি খোঁজে, তবে তা ভবিষ্যতে সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
প্রচলিত নিয়মে সংশোধনের মাধ্যমে প্রিয়াম্বল বা প্রস্তাবনা পরিবর্তন করা যায় না। কোনো সংশোধন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে পরবর্তী সময়ে আদালতে তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার মতো সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনগণের গাঠনিক ক্ষমতার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট অতীতে স্বীকার করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই আইনি দর্শনের প্রয়োগ প্রয়োজন।
আইনি জটিলতা এড়াতে শিশির মনির একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার সম্পন্ন করাই একমাত্র কার্যকর পথ। তিনি উল্লেখ করেন, যে সমঝোতার ভিত্তিতে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ছয় মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরও এই বিতর্ক জিইয়ে না রেখে দ্রুত সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার আইনি ভিত্তি সুসংহত করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু: এমপি নজরুল ও তার স্ত্রীর ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।