
খুলনা: খুলনার নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে ভাত চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম আসামি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী হাসনাত হাবিব রিফাতকে (৩০) পিরোজপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। সোমবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকা থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার হাসনাত হাবিব রিফাত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পাশের একটি ছাত্রাবাসের গলি থেকে আজমুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ভাত চুরির অদ্ভুত ও অমানবিক অপবাদ দিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর থেকেই পুরো শিক্ষাঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার ও সহপাঠীরা বিচার দাবি করে আসছেন। হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।
র্যাবের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর খুলনা ও বরিশাল র্যাবের একটি যৌথ দল পিরোজপুরে অভিযান পরিচালনা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত আজমুল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, রিফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের মতো একটি গুরুতর অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীর জড়িত থাকা নিয়ে দেশের শিক্ষাঙ্গনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের নৃশংসতা রোধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এমন জঘন্য অপরাধের পেছনের মূল উস্কানিদাতা ও অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে।
গ্রেপ্তারকৃত হাসনাত হাবিব রিফাতকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তরের পর আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড চেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার আজমুলের পরিবার দ্রুত বিচার ও জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।