সম্প্রতি লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ফোনালাপ হয়েছে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন। কারও মাথা খারাপ হলে সে এ ধরনের কথা বলতে পারে। আমি তখন মৃতপ্রায় অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলাম। এটা একেবারে ভিত্তিহীন ও বানানো কথা।”
বঙ্গভবন ও সরকারের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের কথা বলা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শুক্রবার দুপুর নাগাদ জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র পাঠাতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই চরম নাটকীয়তার মধ্যেই নিজের চিকিৎসা সফর সংক্ষিপ্ত করে ব্যাংকক থেকে শুক্রবারই দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে হলে স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র জমা দিতে হয়। এছাড়া সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত বা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে স্পিকার সাময়িকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেও, সংবিধানের ১২৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক। দেশের এমন এক উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্পিকারের আকস্মিক দেশে ফেরা তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
মন্তব্য করুন