দৈর্ঘ্যপ্রস্থ জটিলতা ও আন্দোলন পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদের প্রাথমিক বাছাইয়ে টিকে থাকা প্রার্থীরা। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
উপসচিব রাজীব কুমার সরকারের স্বাক্ষর করা ওই নোটিশে নিশ্চিত করা হয় যে, নির্ধারিত দিনেই নির্বাচিতদের জেলা অফিসে হাজির হয়ে যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যোগদান পত্রে বিস্তারিত নিয়মাবলী থাকবে, যা প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ডাক বা বার্তা মারফত পৌঁছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদেরকে সুবিধাজনক স্কুলে পদায়ন এবং আবশ্যকীয় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু দীর্ঘ ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে চূড়ান্ত পদায়ন না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছিলেন প্রার্থীরা। এর আগে গত বছর ৯ জানুয়ারি পার্বত্য ৩টি জেলা ব্যতীত দেশের অন্য ৬১টি জেলায় একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় টিকেন প্রায় ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী, যারা পরবর্তী ধাপে ভাইভার সুযোগ পান।
তবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরেও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান ও যোগদানের আদেশ পেতে অনেক বিলম্ব ঘটে। বিলম্বের প্রতিবাদে চাকরিপ্রার্থীরা রাজধানী ঢাকার শাহবাগ এবং মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) কার্যালয়ের সামনে একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ৩ মে শিক্ষক পদে নির্বাচিতদের সকল নথিপত্র এবং পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ড পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ জারি করে মন্ত্রণালয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত ১০ মে ডিপিই থেকে মাঠপর্যায়ের জেলা কর্মকর্তাদের প্রাক-পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সমস্ত যাচাই প্রক্রিয়া শেষে এবং চাকরিপ্রার্থীদের লাগাতার দাবির মুখে শেষপর্যন্ত আগামী ১ অক্টোবর যোগদানের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করে সিদ্ধান্ত দিল কর্তৃপক্ষ।
মন্তব্য করুন