
সৌর বায়ুমণ্ডল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এক বিশাল খণ্ড কণা পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে, যার ফলে চলতি সপ্তাহে একটি মৃদু জিওম্যাগনেটিক ঝড় সৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম আর্থস্কাই এবং মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত সোমবার সূর্যের এআর৪৫২৯ সক্রিয় অঞ্চল থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ)-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী কণাগুলো বৃহস্পতিবারের মধ্যে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডলে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও চার্জযুক্ত গ্যাস থাকে। এই উপাদানের বিশাল পরিমাণ মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে করোনাল ম্যাস ইজেকশন বা সিএমই বলা হয়। সোমবারের ওই বিস্ফোরণের পর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে উপাদানের একটি অংশ সরাসরি পৃথিবীর পথ ধরে এগোচ্ছে। এছাড়া করোনাল হোল থেকে বের হওয়া দ্রুতগতির সৌর বায়ু এই সিএমই-এর গতি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে এর প্রভাব একদিন ধরে ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে পারে।
এনওএএ জানিয়েছে, এই ঘটনার ফলে জি-ওয়ান (G1) বা তাদের পাঁচ পয়েন্টের স্কেলের সর্বনিম্ন মাত্রার ঝড় হতে পারে। এই স্তরে পাওয়ার গ্রিডে সামান্য ওঠানামা এবং স্যাটেলাইটে নগণ্য প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে এই সৌর কণার মিথস্ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত প্রভাব কেমন হবে। এই ধরনের ঝড়ের কারণে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটে, যা অতীতে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং নেভিগেশনে প্রভাব ফেলেছে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী ঝড়ের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বা প্রযুক্তিতে এর কোনো বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। পাশাপাশি, এই কণার প্রভাবে রাতের আকাশে মেরুপ্রভা বা অরোরা সৃষ্টি হতে পারে, তবে তা মূলত উচ্চ অক্ষাংশ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
মহাকাশ আবহাওয়া গবেষকরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সৌর কণাগুলোর চৌম্বক ক্ষেত্র পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের সঙ্গে কীভাবে বিক্রিয়া করে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত প্রভাব নির্ধারিত হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো বিপদের আশঙ্কা না থাকলেও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বিষয়টির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।