|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

পাবনায় শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: মরদেহ ঘরে রেখে খোঁজার নাটক

0 শেয়ার
পাবনায় শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: মরদেহ ঘরে রেখে খোঁজার নাটক
পাবনায় শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: মরদেহ ঘরে রেখে খোঁজার নাটক
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • পাবনার সদর উপজেলায় ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে আসামিরা নিজেরাই শিশুটিকে খোঁজার নাটক করেন এবং মানববন্ধনে অংশ নেন।
  • পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য জানানো হয়।

পাবনার সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কামাল (৫৫) ও ইয়াছিন আলী (২১) নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাবনায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হয়।

তৃতীয় টার্মিনালে ১২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা মেনজিসের

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কুলুনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়। ওই দিন অভিযুক্ত মোস্তফা কামাল ও ইয়াছিন আলী শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনের শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে দুজন মিলে তাকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনা জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে প্রথমে ঘরের খাটের নিচে বস্তাবন্দি করে রাখা হয় এবং পরে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত ডোবায় লতাপাতার নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আসামিরা হত্যার পর স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করেন এবং কলিকে উদ্ধারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন ও এলাকাবাসীর তল্লাশি কার্যক্রমেও অংশ নেন।

পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আসামিরা ডোবা থেকে মরদেহটি তুলে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। বস্তাটি একটি সেফটি ট্যাংকের কাছে নেওয়ার সময় মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং কুকুরের ডাক শুনে ভয় পেয়ে তারা বস্তাটি ফেলে পালিয়ে যান। পরের দিন সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

ডিজিটাল প্রমাণ ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

তদন্তে মোস্তফা কামালের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে কলি তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে মোস্তফার মুদি দোকানে গেলে মোস্তফা শিশুটির একাধিক ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করেন। যদিও পরবর্তীতে ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল, তবে সাইবার প্রযুক্তির সহায়তায় তা পুনরুদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রাথমিক আলামত নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে ইতোমধ্যে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং পুরো ঘটনার নেপথ্য পরিকল্পনা উন্মোচনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর তদন্তভার পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।