
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত মোট ৪০ জন কর্মকর্তার মধ্যে জাইমা রহমানসহ মোট ৬ জন বাংলাদেশী গুরুত্বপূর্ণ এই পদে স্থান পেয়েছেন। কার্যালয়ের আইনি বিষয়গুলো পেশাদারিত্বের সাথে দেখাশোনা করাই হবে তাঁর মূল দায়িত্ব।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সভাপতিত্বেই বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের উপস্থিতি ও প্রতিনিধিত্ব আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘের প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, সভাপতির কার্যালয়ে আইনি পরামর্শ প্রদান এবং দাপ্তরিক প্রক্রিয়া তদারকিতে জাইমা রহমান তাঁর মেধার স্বাক্ষর রাখবেন। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সভাপতির কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে আইনি জটিলতা নিরসনে তাঁর এই নিয়োগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।
"জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মনীতি বজায় রাখতে লিগ্যাল অফিসারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তাদের এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থায় যুক্ত হওয়া দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করছে।" - সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্র
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে ড. খলিলের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার জাইমা রহমান
জাইমা রহমান ছাড়াও এই কার্যালয়ে আরও ৫ জন বাংলাদেশী কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে কূটনৈতিক আব্দুল আলিম 'ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট' হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী, মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাসবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা স্বল্পোন্নত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষাতেও সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। তাঁর এই নানামুখী অভিজ্ঞতা জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।