
তীব্র তারল্য সংকটের কারণে সরকারি সিকিউরিটিজ লেনদেনের প্রধান ডিলার বা প্রাইমারি ডিলার (পিডি) লাইসেন্স ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের তিন বেসরকারি ব্যাংক। এর মধ্যে এবি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের পিডি লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের লাইসেন্স তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখার বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ বিভাগের অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক স্বেচ্ছায় তাদের পিডি লাইসেন্স সমর্পণের আবেদন করলে অর্থ বিভাগ এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতামত চায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সম্মতি দেয়। অন্যদিকে ন্যাশনাল ব্যাংক দুই বছরের জন্য লাইসেন্স স্থগিতের আবেদন করলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তিন মাসের জন্য তা স্থগিত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে। এই তিন ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে তীব্র তারল্যসংকট ও ট্রেজারি কার্যক্রমে বাধ্যবাধকতা পূরণের অক্ষমতা উঠে এসেছে।
এবি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত ১২ মে পিডি লাইসেন্স সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং আগামী ১ অক্টোবর থেকে তা বাতিলের আবেদন করে। আবেদনে ব্যাংকটি জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকার ডিমান্ড ঋণ নেওয়ার পরও দৈনন্দিন লেনদেন পরিচালনা করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোড়া ফজলুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকের বর্তমান বাস্তবতায় পিডি লাইসেন্স রাখার দরকার নেই বলে আমরা মনে করছি। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে ভবিষ্যতে তা আবার সরকারের কাছে চাইব। অন্যদিকে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম আওলাদ হোসেন জানান, তারা পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের দিকে যাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় তারা লাইসেন্স প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন।
ট্রেজারি বিল ও বন্ডের প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি বাজারের মূল অংশগ্রহণকারী হলো পিডি ব্যাংকগুলো। ব্র্যাক ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক নতুন করে লাইসেন্স পাওয়ার পর বর্তমানে দেশে পিডি লাইসেন্সধারী ব্যাংকের সংখ্যা ২৬টি, যার মধ্যে চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বাকি ২২টি বেসরকারি ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদি এই লাইসেন্সগুলোর মেয়াদ শেষে সরকার বার্ষিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নের চিন্তা করছে। প্রাইমারি ডিলারস বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিডিবিএল) চেয়ারম্যান ও এমটিবির এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, সরকারি সিকিউরিটিজের নিলামে অংশ নিতে তারল্য লাগে। যাদের কিছুটা সমস্যা আছে, তারা লাইসেন্স প্রত্যাহার করে নেবে, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার এ কার্যক্রমে ফিরবে বলে আশা করা যায়।
এদিকে ন্যাশনাল ব্যাংক তারল্যসংকটের কারণে সিআরআর ও এসএলআর বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ায় দুই বছরের জন্য লাইসেন্স স্থগিত চেয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে, তাই তিন মাসের জন্য তা স্থগিতের পক্ষে মত দিয়েছে। ব্যাংক খাতের এই বর্তমান পরিস্থিতি এবং তারল্য ব্যবস্থাপনার কড়াকড়ি আগামী দিনে সরকারি সিকিউরিটিজ বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।