
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে চলতি বছর চার শিশুর শরীরে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা এইচ৫এন১ (H5N1) শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত চার শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৮ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ১৯ সেপ্টেম্বর এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে হাঁস ও মুরগির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে এসব সংক্রমণের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগের এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশে এইচ৫এন১ সংক্রমণের বিষয়টি সামনে আসে। এরপর রংপুর ও সিলেট বিভাগে আরও তিন শিশুর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ১৭ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুজন মারা গেছেন। ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দেশে এ ভাইরাসের কোনো সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।
আমরা সংক্রমণের সঙ্গে হাঁস-মুরগির সংস্পর্শে আসার যোগসূত্র পেয়েছি। হাঁস-মুরগির মাংস বা অন্যান্য পণ্য খাওয়ার চেয়ে সরাসরি সংস্পর্শ থেকেই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। ভালোভাবে রান্না করা হাঁস-মুরগির মাংস খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই। - ডা. কাজী আহমেদ জাকী, পরিচালক, আইইডিসিআর।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামাঞ্চলে শিশুরা প্রায়ই গৃহপালিত হাঁস-মুরগির সঙ্গে খেলাধুলা করে, যা তাদের সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলছে। আইইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেনের মতে, খামারের কর্মী ও বিক্রেতাদের জন্য মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা জরুরি। এছাড়া, খামারে নিয়মিত নজরদারি ও সংক্রমিত পাখি শনাক্ত হলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তবে এইচ৫এন১ একটি জুনোটিক রোগ হওয়ায় এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে। তাই খামার ব্যবস্থাপনায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং শিশুদের হাঁস-মুরগির সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা চালুর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।