২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৩০ জুন ২০২৬) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারে এটি ট্রাইব্যুনালের ষষ্ঠ মামলার রায়। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মামলার একমাত্র আসামি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত ৩, ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেও ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় ইনু নিজে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে 'জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক' বলে আখ্যা দেন। একই সাথে তাদের দমনে বলপ্রয়োগ ও হত্যার উসকানি দেন। (এই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন)
দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ১৪-দলীয় জোটের সভায় আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির সিদ্ধান্ত গ্রহণে উসকানি ও সহায়তা করেন। (এই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন)
তৃতীয় অভিযোগ: ভিডিও ও ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার একটি তালিকা তৈরি করে তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ফোনে নির্দেশ দেন।
চতুর্থ অভিযোগ: গণআন্দোলন দমাতে মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণের পরিকল্পনা করেন। (এই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন)
পঞ্চম অভিযোগ: গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সরকারের চালানো হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন জানান। (এই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন)
ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৪-দলীয় জোটের নীতি নির্ধারণী সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখেন।
সপ্তম অভিযোগ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে সরাসরি কথা বলে দমন-পীড়নের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকেন।
অষ্টম অভিযোগ: ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিনসহ ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা এবং দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন। (এই অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন)
রায় ঘোষণার আগে আদালত কক্ষে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখা যায়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকার সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তার হাত ধরতে গেলে ইনু তাদের হাত সরাতে বলেন এবং হাত না ধরার জন্য নির্দেশ দেন।
মন্তব্য করুন