দেশের চার সমুদ্রবন্দর থেকে সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করা হলেও আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পাঁচটি বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর বঙ্গোপসাগরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে আসায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তবে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্র শান্ত হলেও দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুরসহ দেশের প্রায় ১৯টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি। এই কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে।
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ দুপুর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের পাঁচ বিভাগে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বিভাগগুলো হলো:
রংপুর
ঢাকা
ময়মনসিংহ
চট্টগ্রাম
সিলেট
এসব বিভাগের কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার (ভারি) এবং কিছু জায়গায় ৮৮ মিলিমিটারের চেয়েও বেশি (অতিভারি) বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের মতে, বৃষ্টির এই প্রবণতা আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত বজায় থাকতে পারে এবং এরপর ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
টানা অতিভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড়বেষ্টিত জেলাগুলোতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাহাড়ি এলাকায় শনি ও রবিবারের মধ্যে ভূমিধস বা পাহাড়ধসের সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন।
বর্তমানে ভারতের উত্তর প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল দিয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ুটি বাংলাদেশের ওপর বেশ সক্রিয় রূপ নিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল কুমারখালীতে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, যেখানে ১৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০৬ মিলিমিটার ও ঢাকায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
মন্তব্য করুন