নিজের কক্ষপথে পৃথিবীর সাড়ে ২৩ ডিগ্রি হেলে থাকা এবং উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল চলমান থাকার কারণে বুধবার বিশ্বের ৯৯ শতাংশ মানুষ একই সময়ে দিনের আলোর আওতায় থাকবেন। সাধারণত পৃথিবীর আহ্নিক গতির কারণে এক গোলার্ধে সূর্যের আলো পড়লে অন্য গোলার্ধে অন্ধকার থাকে। তবে বুধবার এর এক বিরল ব্যতিক্রম ঘটতে যাচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় ৮২০ কোটি (৯৯ শতাংশ) মানুষ একই সঙ্গে দিনের বা গোধূলির আলোর সাক্ষী হবেন। গ্রিনিচ মান সময় বেলা আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিট) এই ঘটনাটি ঘটবে। তবে মহাজাগতিক এই বিশেষ মুহূর্তটা মাত্র ১ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
জানা গেছে, পৃথিবীর এই ৯৯ শতাংশ মানুষের বসবাস উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলজুড়ে। বাকি যে ১ শতাংশ মানুষ এই সময়ে অন্ধকারে থাকবেন, তাদের বসবাস মূলত অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ ও অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে।
কত মানুষ দিন, গোধূলি ও রাত উপভোগ করবেন?
যে মুহূর্তে সূর্যের পূর্ণ আলো পৃথিবীর প্রায় সব মানুষের কাছে পৌঁছাবে, তখন সরাসরি দিনের আলোর সাক্ষী হবেন ৬৯০ কোটি মানুষ (৮৩ শতাংশ)। আর ৫৮ কোটি ১০ লাখ মানুষ (৭ শতাংশ) প্রথম স্তরের গোধূলির আলো পাবেন, যখন কৃত্রিম আলো ছাড়াই চারপাশ দৃশ্যমান থাকে।
এর বাইরে আরও প্রায় ৪৯ কোটি ৮০ লাখ মানুষ (৬ শতাংশ) দ্বিতীয় স্তরের গোধূলির আলোতে থাকবেন, যেখানে আকাশ বেশ অন্ধকার হয়ে এলেও দিগন্তরেখা স্পষ্ট দেখা যায়। অন্যদিকে, ২৪ কোটি ৯০ লাখ মানুষ (৩ শতাংশ) শেষ স্তরের গোধূলির আলো পাবেন, অর্থাৎ আকাশে কেবল মৃদু আলোর আভা থাকবে। আর ওই নির্দিষ্ট মুহূর্তে মাত্র ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষ (১ শতাংশ) পূর্ণ রাত বা সম্পূর্ণ অন্ধকার উপভোগ করবেন।
মন্তব্য করুন