
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং সপ্তাহ বা মাস চোখের পলকে ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হওয়ার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কারণ। ২০১৯ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেসে প্রকাশিত এক গবেষণায় মানসিকভাবে সময়কে উপলব্ধি করা এবং ঘড়ির সময়ের মধ্যে এক ধরনের বৈজ্ঞানিক অসামঞ্জস্যের কথা বলা হয়েছে। গবেষকদের মতে, আক্ষরিক অর্থে ২৪ ঘণ্টার দিন অপরিবর্তিত থাকলেও আমাদের মনের টাইম বা উপলব্ধির জগৎ সম্পূর্ণ আলাদাভাবে কাজ করে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রিচলিংক বয়স বাড়ার সঙ্গে সময় দ্রুত অনুভবের পেছনে পাঁচটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনুপাত তত্ত্ব। ১০ বছর বয়সে জীবনের এক বছর মোট অর্জিত অভিজ্ঞতার ১০ শতাংশের সমান হলেও, ৫০ বছর বয়সে তা মাত্র ২ শতাংশের সমান হয়ে দাঁড়ায়। ফলে জীবনের মোট সময়ের তুলনায় প্রতিটি নতুন বছরের অংশ ক্রমান্বয়ে ছোট বলে মনে হয়।
'সময়কে আরও একটু ধীর করুন। রুটিন থেকে বেরিয়ে আসতে নিজেকে নতুন কিছু করতে বাধ্য করুন এবং নিজেকে চমকে দিন।' - অ্যাড্রিয়ান বেজান, অধ্যাপক ও গবেষক
নতুনত্বের ঘাটতি এই অনুভূতির আরেকটি বড় কারণ। দৈনন্দিন জীবন প্রায় একই রকম কাটলে মস্তিষ্ক আলাদা কোনো স্মৃতি সংরক্ষণ করে না, ফলে পেছনে ফিরে তাকালে সময় সংকুচিত মনে হয়। এছাড়া পরিচিত কাজ করার সময় মস্তিষ্কের স্বয়ংক্রিয় কাজের ধরন এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে ডোপামিনের মাত্রার পরিবর্তনও সময় দ্রুত পার হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
এই একঘেয়েমি ও দ্রুত সময় চলে যাওয়ার অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে বিশেষজ্ঞরা রুটিন বদলানোর পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিদিনের গতানুগতিক কাজের বাইরে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা অর্জন বা শখ গড়ে তুললে মস্তিষ্ক নতুন স্মৃতি তৈরি করে, যা সময়কে দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।