|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ

বেসরকারি চাকরির নতুন বিধিমালা: সুরক্ষা নাকি সুযোগ কমানোর ফাঁদ?

0 শেয়ার
বেসরকারি চাকরির নতুন বিধিমালা: সুরক্ষা নাকি সুযোগ কমানোর ফাঁদ?
বেসরকারি চাকরির নতুন বিধিমালা: সুরক্ষা নাকি সুযোগ কমানোর ফাঁদ?
সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত মডেল চাকরি প্রবিধানমালার খসড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
  • বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা এটিকে বাধ্যতামূলক আইন করার দাবি জানিয়েছেন।
  • সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কর্মঘণ্টা, বেতন কাঠামো ও ছুটির স্পষ্ট বিধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি খাতের লাখো কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরির নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত ‘মডেল চাকরি প্রবিধানমালা’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শ্রম আইনের আওতার বাইরে থাকা বিশাল এই কর্মীগোষ্ঠীর জন্য এটি একটি আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ হলেও, খসড়াটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি কর্মীদের সুরক্ষা দেবে, নাকি ঘুরপথে বিদ্যমান সুবিধাই ছেঁটে ফেলবে?

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: পোশাক কারখানায় ৬ জনের মৃত্যু, আহত ২৪

বর্তমানে বেসরকারি ব্যাংক, বিমা, আইটি, এনজিও ও সেবা খাতের কর্মীরা শ্রম আইনের ২(৬৫) ধারার সংজ্ঞার বাইরে থাকায় তাদের চাকরির নিরাপত্তা ও পাওনা মূলত নিয়োগপত্র ও চুক্তি আইনের ওপর নির্ভরশীল। প্রস্তাবিত খসড়ায় লিখিত নিয়োগপত্র, বৈষম্যবিরোধী বিধান ও মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো ইতিবাচক দিক থাকলেও, এটি বাধ্যতামূলক নয় বরং নির্দেশিকামাত্র হওয়ায় এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বেসরকারি খাতের এই প্রবিধান কেবল মালিকপক্ষের মতামতে চূড়ান্ত হওয়া উচিত নয়। কর্মচারী প্রতিনিধি, মানবসম্পদ পেশাজীবী ও গবেষকদের মতামতের ভিত্তিতে এটিকে একটি ন্যায্য সনদ হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।

প্রবিধানমালার সীমাবদ্ধতা ও সুপারিশ

বিশ্লেষকদের মতে, খসড়াটিতে ওভারটাইম মজুরি, পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মঘণ্টার পর ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অনুপস্থিত। এছাড়া ‘কর্মকর্তা’ ও ‘কর্মচারী’র অস্পষ্ট সংজ্ঞার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের সুরক্ষার বাইরে রাখা সহজ হয়ে পড়ছে। টেকসই উন্নয়ন ও নীতিমালাবিষয়ক লেখক সুবাইল বিন আলমের মতে, একে মডেল হিসেবে না রেখে প্রজ্ঞাপন আকারে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম মান হিসেবে জারি করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন
Advertisement

আরও পড়ুন: সরকারি চাকরি পাওয়ার পর প্রবাসীকে তালাক, আদালতে মামলা

প্রস্তাবিত সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে সপ্তাহে দুই দিন ছুটি, মূল বেতনের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নিশ্চিত করা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও মূল্যস্ফীতির সাথে সমন্বয় এবং চাকরি অবসানে ৩০ দিনের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা। এছাড়া, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা ও দুর্ঘটনা বিমা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

পরিশেষে, এই প্রবিধানমালা যেন কেবল একটি সিলিং বা সর্বোচ্চ সীমা না হয়ে কর্মীদের অধিকারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড ও ২০২৬ সালের শ্রম আইন সংশোধনীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নই বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনতে পারে।

Dhaka Story
Dhaka Storyভেরিফাইড

ঢাকা স্টোরি সততা ও সত্যতা যাচাই নীতিমালার অধীনে খবর প্রকাশ করে। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিজ্ঞাপন

Advertisement
Advertisement
বিজ্ঞাপন
Advertisement
Dhaka Story
ঢাকা স্টোরি
তাত্ক্ষণিক নিউজ আপডেট

ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।