
রাজধানীর বারিধারা এলাকায় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কারের চাপায় অজ্ঞাতপরিচয় এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। গত রাতে ঘটিত এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও পুলিশ যৌথভাবে তৎপরতা চালিয়ে ঘাতক চালককে আটক করে এবং গাড়িটি জব্দ করে। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, নিহত ব্যক্তি বারিধারা এলাকায় রাস্তা সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করার সময় বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি প্রাইভেট কার তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। দুর্ঘটনার পর চালক পালানোর চেষ্টা করলেও উপস্থিত জনতা তাকে ধাওয়া করে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। ব্যস্ত সড়কে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রায়শই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, ঘাতক চালককে ইতোমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন,
আমরা চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করছি এবং গাড়িটির ফিটনেস ও লাইসেন্স যাচাই করা হচ্ছে। নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় রাতের বেলা ভারী যানবাহন ও প্রাইভেট কারের বেপরোয়া গতি জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যারা রাতে শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কার বা মেরামতের কাজ করেন, তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু চালকের বেপরোয়া মনোভাব নয়, বরং কর্মস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবও এ ধরনের প্রাণহানির জন্য দায়ী। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং রাতের বেলায় সড়কে গতিসীমা কঠোরভাবে নজরদারির আওতায় আনা না হলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো সম্ভব নয়।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় পাওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।