
ঢাকা: জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এবং চাকরির সুনির্দিষ্ট মেয়াদ বিবেচনা করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ করে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৪ শাখার যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম এই গেজেটে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই সংশোধিত হারটি আগামী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজিবি কর্মকর্তা ও জোয়ানরা ২০১৫ সালের পুরোনো স্মারক অনুসারেই তাদের বর্তমান সীমান্ত ভাতা পেয়ে আসছেন। নতুন নিয়মে ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের এই ভাতার আওতাভুক্ত করা হয়েছে, যা চাকরির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাবে।
প্রজ্ঞাপনে বিজিবিতে প্রেষণে কর্মরত সদস্যদের জন্য একটি বিশেষ বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। কোনো প্রেষণে নিয়োজিত কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি বিজিবির নির্ধারিত সীমান্ত ভাতা গ্রহণ করেন, তবে তিনি তার মূল প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থ বিভাগের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গ্রেড ও চাকরির বছর ভেদে বিজিবি সদস্যদের মাসিক সীমান্ত ভাতার পরিমাণে তারতম্য রয়েছে। যেমন গ্রেড-২০ এর ক্ষেত্রে ৫ বছরের কম চাকরিতে ১,৪৪০ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিতে ৩,১২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে গ্রেড-৬ এর ক্ষেত্রে ৫ বছরের কম চাকরিতে ৩,২৪০ টাকা এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিতে ৬,৪৮০ টাকা পর্যন্ত সীমান্ত ভাতা পাওয়া যাবে। চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই ভাতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী এই আর্থিক কাঠামোগত সংস্কার সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত বিজিবি সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই ভাতা দেশের সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।