
রোববার সকালে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার কদমতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তার সরকারি ল্যাপটপ, মুঠোফোন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের শিকার সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. হাসান-উজ-জামান খান থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি, বরং মালামাল হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোরে ট্রেন থেকে নেমে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করার সময় ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এই অপরাধ সংঘটিত হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ট্রেনে চড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছান। চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে হেঁটে কদমতলী বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছানোর পর দুই থেকে তিনজন যুবক আকস্মিকভাবে তাঁর পথরোধ করে। তাঁরা ধারালো ছুরির ভয় দেখিয়ে তাঁকে জিম্মি করেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকা সরকারি ল্যাপটপ, মুঠোফোন, পরিচয়পত্র ও মানিব্যাগ বলপূর্বক ছিনিয়ে নেন। ব্যস্ততম এলাকায় এমন প্রকাশ্য ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ছিনতাইয়ের শিকার মো. হাসান-উজ-জামান খান জানান, থানায় গিয়ে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার কথা জানিয়ে মামলা করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে জিডি নিয়েছে।
কাস্টম হাউস সূত্রে জানা গেছে, ছিনতাই হওয়া সরকারি ল্যাপটপটিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার ইনস্টল করা রয়েছে। এই ল্যাপটপে কাস্টমসের তথ্যের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অ্যাসাইকুডা সফটওয়্যার যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ও গোপনীয় ডেটা সংরক্ষিত আছে। ফলে এই ল্যাপটপটি দুর্বৃত্তদের হাতে থাকা মানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নুর জানিয়েছেন যে, ল্যাপটপ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট ছিনতাইয়ের অভিযোগ থাকার পরও কেন মামলা না নিয়ে শুধু জিডি গ্রহণ করা হলো, সে বিষয়ে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে মন্তব্য করেছেন। এর আগে শনিবার একই থানার সতীশ বাবু লেনে আরেকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরে।
বর্তমানে ল্যাপটপ উদ্ধার এবং জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। কাস্টমসের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে যাতে অতি দ্রুত প্রযুক্তিগত ডেটা সুরক্ষিত করা যায় এবং খোয়া যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।