
কুমিল্লা: আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয় এবং শনিবার তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পুলিশ সুপার জানান, নিখোঁজের পর পরিবারের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন দুপুর দুইটা থেকে সোয়া দুইটার মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন নামের এক যুবক অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায়। তুহিনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অপ্রতিমের আইফোনটি ছিনতাই করার পরিকল্পনা থেকেই তাকে ওই স্থানে নেওয়া হয়েছিল।
"প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি যে, সানন্দা নামক স্থানে আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের ধস্তাধস্তি হয় এবং তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায়।" - মো. আনিসুজ্জামান, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।
পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তিনজন এবং সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের জন্য আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), হাতিগাড়া এলাকার মো. কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) এবং এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম (১৮)। পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, নিহত অপ্রতিমের সাথে এই বখাটে যুবকদের একটি অসম বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। বয়স ও সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমে যুক্ত ছিল এবং টিকটক করত।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কাজ প্রায় শেষের পথে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে। রামিসা হত্যা মামলার মতো এই মামলাটিরও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আদালতের কাছে বিশেষ আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।