
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লার ভুইঘর এলাকার একটি বাসা থেকে ফারজানা ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুবি ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ও কুবির সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাব একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে পরিকল্পিত হত্যা বলে দাবি করা হচ্ছে।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন ফারজানা ও নাজমুল। বিয়ের পর নাজমুল বেকার থাকাকালীন প্রায় এক বছর তাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল ফারজানার পরিবার। পরবর্তী সময়ে নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর সেই সহায়তা বন্ধ করা হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, টাকার জন্য নাজমুল প্রায়ই ফারজানার সঙ্গে খারাপ আচরণ ও শারীরিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে অতীতে ফারজানা চার মাস বাবার বাড়িতেও অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে তিনি স্বামীর বাড়ি ফিরে যান।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে ফারজানার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ১০টার দিকে নাজমুল ফোন করে ফারজানার পরিবারকে জানান যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে বাড়ির মালিক আব্দুল কাদের জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাজমুল তাকে ডেকে বলেন স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তারা গিয়ে ফারজানাকে ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। বাড়ির মালিকের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে আরেকটি আত্মহত্যার ঘটনায় মরদেহ নামানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারের ঘটনার সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি। কারণ আগের ঘটনায় মৃত ব্যক্তির জিহ্বা ও চোখ বেরিয়ে থাকতে দেখা গেলেও এই ঘটনায় তেমন কিছু লক্ষ্য করা যায়নি।
খবর পেয়ে ফতুল্লা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব জানান, ঘটনাস্থলে ফারজানাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য নিহতের স্বামীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে ফারজানার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে তার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল এবং ঘটনার পরদিন একটি প্রেজেন্টেশন থাকার কথা ছিল। আকস্মিক এই মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।