
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা নেক্সাস বইটি ফেরত নিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রবিবার দুপুরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত নেন। বইটি উপহার দেওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জনকারী হাফেজদের সংবর্ধনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁদের অন্যান্য উপহারের পাশাপাশি ইতিহাসবিদ ও লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা নেক্সাস বইটি দেওয়া হয়েছিল। বইটি বিতরণের পরই ধর্মীয় অঙ্গনে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
বইটি উপহার দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর হেফাজতে ইসলাম ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠন তীব্র আপত্তি জানায়। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়, হারারির লেখায় ধর্ম ও স্রষ্টা সম্পর্কে কিছু মতামত রয়েছে যা ইসলামি বিশ্বাসের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তাই কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনায় এই ধরনের বই উপহার দেওয়া অত্যন্ত অনুচিত হয়েছে। উল্লেখ্য, নেক্সাস বইটিতে মানব ইতিহাসে তথ্যের ভূমিকা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়ে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে বইগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও অন্যান্য আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের হাফেজদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
বই ফেরত নেওয়ার এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনা হাফেজ মুহাম্মদ জাকারিয়া, হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী, হাফেজা রাবিতা বিনতে রমাদান ও হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। এ সময় তাঁদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের হাফেজদের অংশগ্রহণ আরও উৎসাহিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে।
মন্তব্য করুন
ব্রেকিং নিউজ ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের তাৎক্ষণিক আপডেট পেতে নোটিফিকেশন অন করুন।